দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির ভেতর থেকেই নেতৃত্ব ছাড়ার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বড় জয়কে কেন্দ্র করে দলটির অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এখন নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি তুলছেন।
দলটির একটি অংশ চাইছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই স্টারমার ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি ঘোষণা করুন এবং বার্নহ্যামের জন্য পথ তৈরি করে দিন। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর স্টারমার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করে নিজের প্রতি সমর্থনের মাত্রা যাচাই করেন। এ সময় পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার তাকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তবে এর আগেও স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের হতাশাজনক ফলাফলের পর কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে পারে আগামী মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে, যেখানে সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা একত্রিত হবেন।
পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্টারমার বলেন, ‘দুই বছর আগে সাধারণ নির্বাচনে পাওয়া জনসমর্থনের ভিত্তিতেই আমি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি।’
তিনি দাবি করেন, তার সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে এবং অভিবাসন পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
তবে নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে তিনি যে লড়বেন, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্টারমার। তিনি বলেন, ‘যদি প্রতিযোগিতা হয়, আমি তাতে অংশ নেব। আমি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার মানুষ নই।’
এদিকে উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয় তার সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। মেকারফিল্ড আসনে তিনি লেবারের ভোট ১০ শতাংশ বাড়িয়ে রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে ৯ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন।
বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেইগ ‘সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত নেতৃত্ব পরিবর্তনের’ আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জেস ফিলিপস বলেছেন, ‘বার্নহ্যাম এখন লেবার এমপিদের সামনে নিজের নেতৃত্বের যোগ্যতা তুলে ধরার অধিকার অর্জন করেছেন।’
তবে স্টারমারের পক্ষেও সমর্থন রয়েছে। বিচার প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন অ্যাটকিনসন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়চেতা এবং তিনি সহজে দায়িত্ব ছেড়ে যাবেন না।’
নয় বছর পর ওয়েস্টমিনস্টারে এমপি হিসেবে ফিরে আসা বার্নহ্যাম এখন লেবার নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা শুরু করতে হলে ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন, যা তিনি সহজেই পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/অ